রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৬ জুন, ২০২১

ইউনাইটেড জার্নালিস্ট সোসাইটি বাংলাদেশ শহীদুল্লাহ্ আল আজাদ কে আহবায়ক করে খুলনা কমিটি গঠন

ইউনাইটেড জার্নালিস্ট সোসাইটি বাংলাদেশ শহীদুল্লাহ্ আল আজাদ কে আহবায়ক করে খুলনা কমিটি গঠন


স্টাফ রিপোর্টারঃনির্যাতিত" নিপিড়ীত ও অধিকার বন্ধিত সহ সকল সিনিয়র ও জুনিয়র সাংবাদিকেদের নিয়ে গঠিত" ইউনাইটেড জার্নালিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ,, এ দিকে উক্ত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পর এবার ১১ সদস্য বিশিষ্ট খুলনা জেলা আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, ইউনাইটেড জার্নালিস্ট সোসাইটি আব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল্লাহ আল নোমান, সহ খুলনা বিভাগীয় টিম লিডার বাবু দেবব্রত মন্ডল ও খুলনা জেলা কমিটির আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ আল আজাদ সহ আহবায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক ,সদস্যদের  শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে খুলনা জেলা কমিটি। এ দিকে ইউনাইটেড জার্নালিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশের খুলনা জেলা কমিটির আহবায়ক মনোনীত হয়েছেন,, শেখ ছখিনা খয়বার শিল্পী বেতার শ্রোতা সংঘের সভাপতি, গীতিকার ও সুরকার সহ ব্যাচিক শিল্পী ও তরুণ প্রজন্মের অহংকার দৈনিক বাংলাদেশ সংবাদ ও দৈনিক প্রতিদিনের স্বদেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ( ১)আহবায়ক মোঃ শহীদুল্লাহ আল আজাদ। (২.) খুলনা জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন" খুলনা ইসলামীয়া কলেজের ইংরেজি প্রভাষক" বাংলাদেশ বেতার খুলনার উজ্জ্বল নক্ষত্র একাধারে" সাংবাদিক/ সংবাদ পাঠক/ উপস্থাপিকা ও অভিনয় শিল্পী ইফফাত সানিয়া ন্যান্সি,,  (৩)যুগ্ন আহবায়ক দৈনিক সংযোগ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাব রূপসার সাধারণ সম্পাদক মোঃ খবিরুদদীন, । (৪) যুগ্ম আহবায়ক" রূপসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সভাপতি দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার সাংবাদিক 
 মোঃ বেনজির হোসেন। (৫) যুগ্ন আহবায়ক , দৈনিক রূপসা আন্ধল পত্রিকার সম্পাদক  মুন্সী মোঃ রায়হান দৈনিক। (৬) যুগ্ন আহবায়ক,  তরুন সমাজ সেবক, রূপসা ব্লাড কাফেলার প্রতিষ্ঠাতা, দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক এফ এম বোরহান।(৭)যুগ্ন আহবায়কঃ তরুণ প্রজন্মের অহংকার দৈনিক আমাদের ফোরাম পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী  মোঃ মিজানুর রহমান। (৮) সদস্য সচিবঃ তরুণ সমাজের নতুন অহংকার জাতীয় দৈনিক সন্ধাবানী পত্রিকার সাংবাদিক মোঃ রাসেল শেখ সদস্য , (০৯) সদস্যঃ শেখ ছখিনা খয়বার শিল্পী গোষ্ঠী বেতার শ্রোতা সংঘের সম্পাদক,  খুলনা"ল কলেজের শিক্ষার্থী দৈনিক বাংলাদেশ সংবাদ পত্রিকার রিপোর্টার মোঃ ওমর ফারুক, (১০) সদস্যঃ দৈনিক এশিয়া বানী পত্রিকার রিপোর্টারও তরুণ প্রজন্মের অহংকার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ, প্রেসক্লাব রূপসার সাংগঠনিক সম্পাদক , মোহাম্মদ  আজিজুল ইসলাম। (১১) সদস্যঃ তরুন প্রজন্ম ও নতুন সাংবাদিকদের অহংকার, দৈনিক প্রতিদিনের স্বদেশ পত্রিকার সাংবাদিক ও সমাজ সেবক, মোঃ সোহরাব কাজি। উক্ত অনুমোদিত খুলনা জেলা কমিটির দেয়া হয়েছে" এ দিকে ইউনাইটেড জার্নালিস্ট সোসাইটি আব বাংলাদেশ" সংগঠনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান ও খুলনা বিভাগীয় টীম লিডার বাবু দেবব্রত মন্ডল সহ খুলনা  আহবায়ক কমিটির  বিনীত আহবান এই যে" সকলের দোয়া ও ঐক্যবদ্ধ ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যাবে খুলনা আহবায়ক সহ কেন্দ্রীয় কমিটি।

২৫ জুন, ২০২১

নাটোরের খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বাসা থেকে ৩০০ বস্তা সরকারি গম উদ্ধার

নাটোরের খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বাসা থেকে ৩০০ বস্তা সরকারি গম উদ্ধার


স্টাফ রিপোর্টারঃশুক্রবার দুপুরে নাটোরের লালপুরে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের বাসা থেকে ৩০০ বস্তা সরকারি গম উদ্ধার করেছে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট সাম্মি আক্তার। পরে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা রবীন্দ্রলাল চাকমার উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত গম গুলো খাদ্য গুদামে স্থানান্তর করা হয়। 
এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট সাম্মি আক্তার সাংবাদিকদের জানান, উপজেলার গোপালপুর সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অবৈধ্যভাবে সরকারি গম তার বাসায় সরিয়ে রেখেছেন এমন খবর পাওয়ার পর শুক্রবার দুপুরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।পরে গম গুলো পূনরায় গোডাউনে মজুদ করা হয়। এ ব্যাপারে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামে বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ইউএনও ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গুদামে যায়গা স্বল্পতার কারনে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে গমগুলো বাসায় রাখা হয়েছে।
তবে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা রবীন্দ্রলাল চাকমা ওই কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাক্ষান করে জানান, গম বাসায় রাখার ব্যাপারে তাকে কিছু জানানো হয়নি, এমনকি গুদামে যায়গা স্বল্পতার বিষয়টিও সঠিক নয়, গুদামে যথেষ্ট জায়গা আছে গম রাখার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

৭ মে, ২০২১

বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল

বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল

 ঢাকা থেকে মারুফ সরকার :


বিএনপির চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০ দলীয় জোট শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা'র উদ্যোগে। 

শুক্রবার (৭ মে) নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাগপা'র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাগপা সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, সাধারন সম্পাদক এস এম শাহাদাত, যুগ্ম সম্পাদক ডা. আওলাদ হোসেন শিল্পি, সাইফুল আলম, নগর সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন মোবারক, সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন আল আজাদ, জাগপা নেতা মো. ইসহাক আলী, আবুল হোসেন, মনসুর আহমেদ, তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ। 

এসময় জাগপা সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান মানবিক কারণে গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি প্রশ্নে যাছাই-বাছাইয়ের নামে কালক্ষেপণের কৌশল পরিহার করা উচিত। 

তিনি বলেন, দেশকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনেক ত্যাগ ও অবদান রয়েছে। কেবলমাত্র দেশ ও জনগণের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি আজ সবচেয়ে মজলুম নেত্রী। 

দোয়া অনুষ্ঠানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।



মারুফ সরকার 

ঢাকা 

তারিখ -০৭-০৫-২০২১

মোবাইল -০১৭৪৩৩৫৯৭৪১

সুচিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া নিশ্চিত করুন : সরকারকে এনডিপি

সুচিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া নিশ্চিত করুন : সরকারকে এনডিপি

 মারুফ সরকার ঢাকা :


 গুরতর অসুস্থ বিএনপির চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তার বিদেশ যাওয়ার সকল বাধা অপসারনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা। 


শুক্রবার (৭ মে) উত্তরায় ১০ নং সেক্টরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামানায় আযোজিত দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। 


তিনি বলেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে তার পছন্দের বিদেশের হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন বলে দেশবাসী বিশ্বাস করতে চায়। 


তিনি আরো বলেন, উন্নত চিকিৎসার অভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু হয়ে গেলে এর দায় বর্তমান সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনাকালীন এই মহাসংকটে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের পথ সুগম করবেন বলে প্রত্যাশা করি। 


এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ভাইস চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব হায়াত মাহমুদ, ঢাকা মহানগর সভাপতি শহীদুল্লাহ প্রিন্স, সাধারন সম্পাদক জাহিদ হোসেন রহিম প্রমুখ।



মারুফ সরকার 

ঢাকা 

তারিখ -০৭-০৫-২০২১

মোবাইল -০১৭৪৩৩৫৯৭৪১

৩০ এপ্রি, ২০২১

সোমবার পর্যন্ত খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলবে

সোমবার পর্যন্ত খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলবে



রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল আছে। তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী সোমবার পর্যন্ত চলবে। এমনটাই জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের অন্যতম সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।


আজ শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে জাহিদ হোসেন বলেন, আজ এবং কাল শনিবার আরও কয়েকটি পরীক্ষা করাতে হবে। সব পরীক্ষা কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আগামী রবি ও সোমবার পর্যন্ত লাগতে পারে। গত পরশু থেকে খালেদা জিয়ার পুরোনো ওষুধের সঙ্গে নতুন কিছু ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।





খালেদা জিয়া বাসায় ফিরবেন কবে, জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট করে কোনো জবাব দেননি জাহিদ হোসেন। তবে তিনি বলেন, বাসায় ফেরার বিষয়টি চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। সব পরীক্ষা শেষ হলে বোঝা যাবে।


এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হয়। ১০ এপ্রিল করোনাভাইরাসের নমুনা জমা দেওয়া হলে ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার পজিটিভ আসে। এরপর ২৫ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় নমুনা জমা দেওয়ার পর আবারও ফল পজিটিভ আসে।


এভারকেয়ার হাসপাতালে নন–কোভিড জোনে চিকিৎসা নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত এক চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, বিজ্ঞানসম্মত উপায় হচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী দুই সপ্তাহ পার করার পর যদি কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে তাঁকে আর পজিটিভ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।


মামুনুলের কথিত স্ত্রী ঝর্ণা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিভিল সার্জন অফিসে

মামুনুলের কথিত স্ত্রী ঝর্ণা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিভিল সার্জন অফিসে


নিজস্ব প্রতিবেদক : হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের দাবি করা কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সোনারগাঁ সিভিল সার্জন অফিসে নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম। এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঝর্ণা।


ওসি বলেন, মামলার পর ঝর্ণার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সোনারগাঁ সিভিল সার্জন অফিসে নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম আরম্ভ হয়েছে।


মামুনুল হক দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও মামলায় জান্নাত নিজেকে মামুনুল হকের স্ত্রী বলেননি। মামলার এজাহারে তিনি বলেছেন, ‘বিয়ের প্রলোভন ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ২০১৮ সাল থেকে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে আমাকে নিয়ে যান।


মামুনুলের সঙ্গে পরিচয় প্রসঙ্গে জান্নাত বলেন, ‘২০০৫ সালে তার স্বামী মাওলানা শহীদুল ইসলামের মাধ্যমে মামুনুল হকের সঙ্গে পরিচয় হয়। স্বামীর বন্ধু হওয়ায় আমাদের বাড়িতে মামুনুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। মামুনুলের সঙ্গে পরিচয়ের আগে আমরা সুখে–শান্তিতে বসবাস করছিলাম। আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মতানৈক্যের মধ্যে প্রবেশ করে মামুনুল হক শহীদুল ও আমার মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। মামুনুলের কারণে আমাদের দাম্পত্য জীবন চরমভাবে বিষিয়ে ওঠে। সাংসারিক এই টানাপোড়েনে একপর্যায়ে মামনুলের পরামর্শে বিবাহবিচ্ছেদ হয়।


অভিযোগে জান্নাত বলেন, ‘বিচ্ছেদের পর তিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় মামুনুল আমাকে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার জন্য বলেন। আমি ঢাকায় চলে আসি। মামুনুল আমাকে তার অনুসারীদের বাসায় রাখেন। সেখানে নানাভাবে আমাকে প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তার প্রলোভনে পা দিই। এরপর তিনি উত্তর ধানমন্ডির নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসায় আমাকে সাবলেট রাখেন। একটি বিউটি পারলারে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ঢাকায় থাকার খরচ মামুনুলই দিচ্ছিলেন।


জান্নাত আরা ঝর্ণা অভিযোগে বলেন, ‘৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল হক নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কিছু মানুষ আমাদের আটক করে ফেলে। পরে মামুনুল হকের অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে আমাদের নিয়ে যায়। কিন্তু মামুনুল আমাকে নিজের বাসায় ফিরতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় অবৈধভাবে আটকে রাখেন। কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেননি। পরে কৌশলে আমি আমার বড় ছেলেকে আমার দুরবস্থার সব কথা জানাই এবং আমাকে বন্দীদশা থেকে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে বলি। পরে ডিবি পুলিশ আমাকে উদ্ধার করলে জানতে পারি, আমার বাবা রাজধানীর কলাবাগান থানায় আমাকে উদ্ধারের জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ আমাকে উদ্ধারের পর বাবার জিম্মায় দেয়। সেখানে আমি আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়।


জান্নাত আরা ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমানকে গত ২৪ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশের সহায়তায় চেয়ে কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। পরদিন মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ঝর্নাকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। ঝর্না উদ্ধার হওয়ার তিন দিনের মাথায় এই মামলা করলেন।



উল্লেখ্য, মোদিবিরোধী আন্দোলনের নামে রাজধানী ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হাটহাজারীতে বেপরোয়া তাণ্ডবের পর রিসোর্টকাণ্ডে মামুনুল হককে নিয়ে দেশজুড়ে ব্যপক তোলপাড় শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাণ্ডবের অভিযোগে একে একে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতার করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মাওলানা মামুনুল হককে গত ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০২০ সালে দায়ের হওয়া মোহাম্মদপুর থানার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পল্টন ও মতিঝিল থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। ওই দুই মামলাতে আবার তাকে মোট সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।


শহীদ, গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের বিএনপি’র ঈদ উপহার বিতরন

শহীদ, গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের বিএনপি’র ঈদ উপহার বিতরন



মারুফ সরকার ,ঢাকা : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গুম হয়েছে ৬০১ জন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে ২ হাজার ৮৭০ জন। এত যে মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, এর জবাব অবশ্যই এই আওয়ামী লীগ সরকারকে দিতে হবে।

যারা গুম নিখোঁজ হয়ে গেছে তাদের পরিবারের কাছে, গোটা জাতির কাছে তাদের জবাব দিতে হবে। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, যে সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকে তাকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এসমস্ত কৌশল নিতে হয়। কারণ জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকে না। যেহেতু তারা জনবিচ্ছিন্ন থাকে সে কারণে তাদের এই হত্যা, গুম নির্যাতনের আশ্রয় নিতে হয়। এটা আজকের বিষয় নয়, বহু আগে থেকেই চলে আসছে। ফ্যাসিস্ট কারা- যারা নির্বাচিত হয়ে আসে, আসার পরে তারা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এই কৌশলগুলো অবলম্বন করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা যে উদ্দেশ্যে এই রাজনীতি, আন্দোলন সংগ্রাম করছি, যে কারণে আমাদের এই ছেলেরা মাঠ থেকে হারিয়ে গেলো, আমরা একটা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের যে অধিকারগুলো আজকে আওয়ামী লীগের দানব, ফ্যাসিস্ট সরকার সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে কেড়ে নিয়েছে সেই শক্তিকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এজন্যই এত ত্যাগ, এত অশ্রু, এত ব্যাথা, এত বেদনা।


তিনি বলেন, আমরা প্রায় প্রতিবছর যখন আপনাদের সামনে উপস্থিত হই, তখন নিজেদের মাঝে মাঝে অপরাধী মনে হয়। এজন্য যে আমরা এখন পর্যন্ত এই অবস্থার পরিবর্তন করতে পারিনি। একটি ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শক্তি আমাদের সমস্ত অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে, মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা নষ্ট করে দিয়ে, আমাদের স্বপ্নগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে একটা দানবীয় শক্তি হয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদ, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক প্রমুখ।  


মারুফ সরকার 
ঢাকা 
তারিখ -৩০-৪-২০২১
মোবাইল -০১৭৪৩৩৫৯৭৪১

১৯ এপ্রি, ২০২১

ধর্মীয় নেতাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল।

ধর্মীয় নেতাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল।


দেশের ধর্মীয় নেতা ও আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যারা এ দেশের মানুষের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র, তাদেরও গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দেওয়া হচ্ছে।


আজ সোমবার বিকেলে ভার্চ্যুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে লকডাউনের সুযোগ নিয়ে একটা ক্র্যাকডাউন করা হয়েছে। সেই ক্র্যাকডাউনের মধ্য দিয়ে আজকে একদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অন্যদিকে ধর্মীয় নেতা যারা আছেন, আলেম ওলামা যারা আছেন তাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলাও দেওয়া হচ্ছে।;

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ২৬ মার্চকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে এগুলোতে সরকারের তৈরি করা, আমি এর আগেও বলেছি। সরকার খুবই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাগুলো যাতে ঘটে তার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।

বায়তুল মোকাররমে যে বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছিল তা শান্তিপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটাকে অশান্তিপূর্ণ করে দেওয়ার পেছনে পুলিশের সবচেয়ে বড় ভূমিকা, তারপর আওয়ামী লীগের দলীয় সন্ত্রাসীরা ওই কর্মসূচিতে হামলা চালায়। সেই কারণেই হাটহাজারি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে।'


এই ধরনের ধর্মীয় নেতাদের অপমান করা হয়রানি করা দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না বলেও মনে করেন মির্জা ফখরুল। তিনি অবিলম্বে এসব মামলা মোকদ্দমা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় নেতা, আলেম ওলামাদের মুক্তি দেওয়ার কথাও বলেছেন। এ ছাড়া বিএনপির যে সমস্ত নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদেরও নিঃশর্ত মুক্তি এবং সকল মামলা তুলে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।,




গাজীপুরে হেফাজত নেতা এমদাদ দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার।

গাজীপুরে হেফাজত নেতা এমদাদ দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার।



গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা হেফাজতে ইসলামের আমির ও ওলামা পরিষদের সভাপতি মুফতি এমদাদুল হককে (৪২) তাঁর দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত একটার দিকে উপজেলার ডাইনকিনি এলাকার বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দুই ভাই হলেন মোহাম্মদ আলী (৪৮) ও আশরাফ হোসাইন (৪০)। কালিয়াকৈর থানার একটি মামলায় তাঁদের তিন ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গাজীপুর জেলা পুলিশের (কালিয়াকৈর-শ্রীপুর সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল মামুন বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গতকাল রাতে তাঁদের আটক করা হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, হেফাজত নেতা মামুনুল হকের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল রাতে চন্দ্রা-কালামপুর রোডে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে তাদের লক্ষ্য করেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আজ সোমবার সকালে বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কালিয়াকৈর থানায় মামলা হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোরশেদ আলী মোল্লা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।,


গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ ও কালিয়াকৈর থানা–পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের তিনজনকে আজ সকালে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।,

জেলা হেফজতে ইসলামের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন খান বলেন, মুফতি এমদাদুল হক কালিয়াকৈর হেফাজতে ইসলামের উপজেলা কমিটির আমির ও ওলামা পরিষদের সভাপতি।, এ ছাড়া তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা দারুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তাঁর ছোট ভাই আশরাফ হোসাইন একই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক এবং বড় ভাই মোহাম্মদ আলীর মুদিদোকান আছে।'

মামুনুলকে ৭ দিনের রিমান্ডে পেল পুলিশ।

মামুনুলকে ৭ দিনের রিমান্ডে পেল পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক:



হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ভাঙচুরের মামলায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। আজ সোমবার বেলা ১১টার পরে মামুনুলকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের বাইরে কড়া পাহারায় ছিল প্রচুর পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ ও তদন্ত বিভাগের উপকমিশনার জাফর হোসেন জানান, মামুনুলকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ। পরে আদালত মামুনুলের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

হেফাজতের নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে। মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের জন্য গতকাল দুপুর ১২টা থেকেই ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার আশপাশের এলাকায় কয়েক শ পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর মামুনুলকে প্রথমে শ্যামলীতে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। বেলা দুইটায় নেওয়া হয় তেজগাঁও থানায়। পরে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।


২০২০ সালে মোহাম্মদপুরে একটি ভাঙচুরের মামলায় মামুনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা আছে মতিঝিল থানা, পল্টন থানা ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে।


মামুনুল হক হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর কমিটিরও সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব এবং জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।

মামুনুল হক ঢাকায় হেফাজতের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অন্যতম। রাজধানীতে হেফাজতের কর্মসূচিতে তিনি দ্রুত জমায়েত করাতে পারেন। উত্তেজক বক্তৃতার জন্য পরিচিত মামুনুল হক সম্প্রতি হেফাজতের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। তবে ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ ঘেরাও হওয়ার পর মামুনুল হকের একাধিক বিয়ের খবর বের হয়। একের পর এক অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হন তিনি।


পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ে রিসোর্টের ঘটনার পরদিন মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় খেলাফত মজলিসের নেতারা জরুরি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে মামুনুল হক উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাঁকে সাংগঠনিক কোনো কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে লাইভ বক্তব্য ও স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এত দিন তিনি মাদ্রাসাতেই অবস্থান করে আসছিলেন।

মামুনুলের বিরুদ্ধে যেসব মামলা

তেজগাঁও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৭ মার্চ মোহাম্মদপুর থানায় হওয়া মামলায় মামুনুল হক ৭ নম্বর আসামি। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে তাঁর বাবার নাম ও ঠিকানা অজ্ঞাত লেখা আছে। মোহাম্মদপুরের চান মিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দা জি এম আলমগীর শাহীন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে বেআইনি জনতাবদ্ধে এলোপাতাড়ি মারধর, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে গুরুতর জখম, চুরি, হুমকি দেওয়া, ধর্মীয় কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। একটি মুঠোফোন, সাত হাজার টাকা, ২০০ ডলার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ডেবিট কার্ড চুরি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, মামলাটির তদন্ত তাঁরা করছিলেন। তদন্তে মামুনুল হকের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএমপি সদর দপ্তরের একটি সূত্র প্রথম আলোকে বলেছে, ডিবির মতিঝিল বিভাগে তদন্তাধীন আটটি মামলা, লালবাগ বিভাগে তদন্তাধীন দুটি মামলা এবং তেজগাঁও বিভাগে তদন্তাধীন একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মামুনুল হক। এ ছাড়া মতিঝিল থানায় তদন্তাধীন একটি এবং পল্টন থানায় তদন্তাধীন চারটি মামলায় তাঁর নাম রয়েছে। এই ১৬ মামলার মধ্যে ১৫টি মামলাই হয়েছে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের পর। এসব মামলার বাদী পুলিশ। ঢাকায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মামলা হয় ৫ এপ্রিল। গত ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজের পর সংঘর্ষের ঘটনায় এ মামলা করেছেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের (দক্ষিণ) উপদপ্তর সম্পাদক খন্দকার আরিফ উজ জামান। মামুনুল হক এ মামলার ১ নম্বর আসামি।

১৮ এপ্রি, ২০২১

একাধিক মামলায় রিমান্ড চাওয়া হবে মামুনুলের।

একাধিক মামলায় রিমান্ড চাওয়া হবে মামুনুলের।

নিজস্ব প্রতিবেদক : হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মামুনুল হককে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় ২০২০ সালের হামলা-ভাঙচুরের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতার মামলা এবং রিসোর্টকাণ্ডে দায়েরকৃত মামলায়ও তাকে আসামি দেখানো হবে।

মামুনুলকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন উর রশিদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাশকতা প্রাণহানি এবং ঢাকার পল্টন থানায় হামলাসহ বেশকিছু নাশকতার ঘটনায় তদন্ত চলার পাশাপাশি মামুনুলের ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে‌।

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তেজগাঁও বিভাগের সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে নজরদারি করে মামুনুলকে গ্রেপ্তার করেছে। এর পর কোন কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে এবং রিমান্ড চাওয়া হবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'


ডিবির একাধিক সূত্র জানায়, মামুনুলকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হবে। অন্যদিকে মামুনুল গ্রেপ্তারের পর কেউ উত্তেজনা ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। এ জন্য মোহাম্মদপুর বারিধারা এবং যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রিসোর্টকাণ্ডে রাজধানীর পল্টন থানা ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দুটি মামলা হয়েছে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে। এছাড়া, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর তাণ্ডবের ঘটনাতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।,

৫ এপ্রি, ২০২১

মামুনুলের পক্ষ নেওয়া সেই এএসআইকে প্রত্যাহার।

মামুনুলের পক্ষ নেওয়া সেই এএসআইকে প্রত্যাহার।

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছিলেন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গোলাম রাব্বানী। সে বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। গতকাল রোববার এ ভাইরালকাণ্ডের পর রাব্বানীকে সাসপেন্ড করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. মুহিদ উদ্দিন। তিনি জানান, গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাহার করে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পেশার বাইরে গিয়ে কেন অপেশাদার আচরণ করেছেন- এটা জানতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার ও ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

ফেসবুক লাইভে এসে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের প্রশংসা করে গোলাম রাব্বানী বলেন, মামুনুল হক হুজুরের একটি ভিডিও দেখলাম। যে ভিডিওতে দেখা যায়, স্ত্রীকে নিয়ে একটা রিসোর্টে গেছেন তিনি। অধিকাংশ সাংবাদিক সেখানে চিল্লাপাল্লা করে তার কাবিননামা দেখতে চাচ্ছে। আমার প্রশ্ন- সাংবাদিককে এই অধিকার কে দিয়েছে। আপনি যে কাবিননামা দেখবেন, আপনাকে এই অধিকার কি রাষ্ট্র দিয়েছে? আমি তো পুলিশের চাকরি করি, আমার জানা নাই। ভণ্ডামির একটা সীমা আছে। যদি স্ত্রী ব্যতীত অন্য কাউকে নিয়ে যেত, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতো। মিডিয়ার মাধ্যমে এমন একটা আলেম মানুষকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ ধরনের হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।