১৭ সেপ, ২০২১

অপহরনের দুইদিন পর টয়লেটের নিচ থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাদারীপুরের শিবচর থেকে অপহরণের ২ দিন পরে নির্মাণাধীন টয়লেটের নিচ থেকে কুতুবউদ্দিন(২/৬)   নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।এঘটনায় ওই শিশুর আপন  চাচি নার্গীস আক্তার(৩৫) ও চাচাতো বোন হাফসা (১৪) কে আটক করে শিবচর থানা পুলিশ।

(১৬ সেপ্টেম্বর)  বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে পার্শবর্তী জেলার  শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন টয়লেটের মধ্য মাটি চাপা দেওয়া ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

আড়াই বছর বয়সী কুতুবউদ্দিন শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার ঘাট সংলগ্ন বাগিয়া গ্রামের ইসমাইল বেপারী ছেলে।

পারিবারিক ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায় ,গত কয়েক বছর আগে নার্গীস আক্তারের স্বামী আবুল হোসেন বেপারী মারা যান।এর কয়েক বছর পর থেকে নার্গীস আক্তার তার মেয়ে হাফসা ও এক ছেলেকে নিয়ে তার বাবার বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা গ্রামে থাকেন।গত কয়েক দিন ধরে তাদের বাড়ির জমি জমা  ভাগাভাগি নিয়ে তার দেবর ও ভাশুরদের সাথে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।এরই জেরে গত বুধবার সকালে নার্গীস আক্তার তার কন্যা হাফসাকে দিয়ে ফুসলিয়ে কুতুবউদ্দিনকে চকোলেট কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে  নিয়ে একটি ব্যাটারীচালিত অটো যোগে তার বাবার বাড়ি চলে আসে।সেখানে কুতুবউদ্দিনকে মেরে মাটির নিচে পুঁতে রাখেন।

এ ঘটনায় ওই দিন বিকেলেই কুতুবউদ্দিনের বাবা ইসমাইল বেপারী বাদি হয়ে শিবচর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে শিবচর থানা পুলিশ গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে নার্গীস আক্তার ও তার কন্যা হাফসাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।পরে তাদের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে কুতুবউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত কুতুবউদ্দিনের চাচা, মুছা বেপারী বলেন,"আমার ভাই (আবুল হোসেন) মারা যাওয়ার পরে আমরা আমার মরহুম ভাইয়ের বউ,বাচ্চাদের খোঁজ খবর নেই।টাকা পয়সাও দেই।কিন্তু আমার ভাবী ও ভাইয়ের মেয়ে আমার ভাতিজাকে খুন করেছে।আমি এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত বিচার চাই "

শিবচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ জানান, "ঘটনার পরে শিশুটির বাবা আমাদের জানালে আমি শিশুটিকে উদ্ধার করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেই।গতকাল বিকেলে আমরা দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে শরিয়তপুরের নাওডোবা এলাকার একটি টয়লেটের নিচে মটির নিচে পুঁতে রাখা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করি।মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।এব্যপারে থানায় একটি মামলা প্রক্রীয়াধীন।

শেয়ার করুন