১৮ এপ্রি, ২০২১

যৌতুকের জন্য স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করলেন স্বামী।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় কবিতা (১৮) নামে এক গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে তার স্বামী, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি ও স্বজনরা। শুধু তাই নয়, তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করেছে। কবিতা উপজেলার বাহাদীপুর গ্রামের কোরবান আলীর মেয়ে। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, উপজেলার বাহাদীপুর গ্রামের কবিতার সঙ্গে রাউৎবাড়ী গ্রামের আরশেদের সঙ্গে ছয় মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের টাকার জন্য তার স্বামী, শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি ও ননাষ প্রায় সময় মারধর করতো। এরপর আরশেদ কবিতাকে নিয়ে গাজীপুরে চলে যায়। সেখানে আরশেদ একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতো বলে জানা যায়। কিছুদিন পর আরশেদের একটি ভাড়া বাসায় যায় মা-বাবা। পরে সেখানেও যৌতুকের জন্য কবিতাকে নির্যাতন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার তাকে শারীরিক নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়া করে দেয় তার পাষণ্ড স্বামী ও তার স্বজনরা। কবিতার মা শিমু বেগম জানান, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময়ে কবিতার শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি ও আরশেদের বড় বোনও মারধর এবং নির্যাতন করতো। কিন্তু দরিদ্র থাকায় যৌতুক দিতে না পারায় আরশেদ কবিতাকে নিয়ে গাজীপুর চলে যায়। এর কিছুদিন পর কবিতার শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি ও আরশেদের বড় বোন সেখানে গিয়েও যৌতুকের জন্য মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা গত বৃহস্পতিবার আমার মেয়েকে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। গত বৃহস্পতিবার মাথা ন্যাড়া ও নির্যাতনের বিষয়টি কবিতা মোবাইল ফোনে আমাকে জানালে তাকে বাড়ি চলে আসতে বলি। পরে বাড়ী আসারপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে নিয়ে গত শুক্রবার সকালে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহীউদ্দিন বলেন, কবিতার মাথা ন্যাড়া ও বাম-ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব বলেন, মাথা ন্যাড়া ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাটি গাজীপুরের। তাকে কোর্টে বা গাজীপুর থানায় মামলা করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।'

শেয়ার করুন